সময় রাত ২:৩২, সোমবার, ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৩রা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

দ্বিতীয় দফায় রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স বন্ধ-বিপাকে রোগী ও তাদের স্বজনরা

 

রাজবাড়ীঃ    রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সের জ্বালানি তেল সরবরাহকারী পাম্পে বাকি পড়েছে প্রায়  ৩৫ লাখ টাকা। এ জন্য  তেল সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে পাম্প কর্তৃপক্ষ। ফলে দ্বিতীয় বারের মত ১৫ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে হাসপাতালের দু’টি অ্যাম্বুলেন্স। এতে চরম বিপাকে পড়েছে রোগী ও তাদের স্বজনরা। আর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বলা সত্ত্বেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

সদর হাসপাতালের প্রধান সহকারী মোফাজ্জেল হোসেন বলেন – ১০০ শয্যার হাসপাতালটিতে গড়ে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৬০০ রোগী চিকিৎসাসেবা নেন। রোগীদের চিকিৎসার সুবিধার্থে হাসপাতালে রয়েছে দু’টি সরকারি অ্যাম্বুলেন্স। অ্যাম্বুলেন্স দু’টির জ্বালানি তেল সরবরাহ করে জেলা শহরের একটি পেট্রোল পাম্প। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে পাম্পে বাকি পড়ে ৮ লাখ ৮ হাজার ৮২৭ টাকা। পরের অর্থবছরে বাকি ছিল ১৩ লাখ ৩৬ হাজার ৪০৪ টাকা। আর ২০১৭-১৮ অর্থবছরের গত মার্চ মাস পর্যন্ত বাকি পড়ে ১২ লাখ ৩১ হাজার ৫০৩ টাকা। তিন অর্থবছর মিলিয়ে মার্চ মাস পর্যন্ত পাম্পের কাছে হাসপাতালের মোট বাকি ৩৩ লাখ ৭৬ হাজার ৭৩৪ লাখ টাকা।

তিনি আরো জানান –  টাকা বাকির কারণে এপ্রিল মাসের ৭ তারিখ থেকে অ্যাম্বুলেন্সের তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেয় পাম্প কর্তৃপক্ষ। পরে তাদের কাছে অনুরোধ করে একমাস সময় নিলে তারা আবার তেল সরবরাহ শুরু করে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ করতে না পারায় তারা মে মাসের ৮ তারিখ থেকে দ্বিতীয় দফায় আবারও তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। অনুরোধ করে নেওয়া একমাসের তেলের টাকার হিসেবের রশিদ এখনো হাতে পাইনি। তাতে সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত বাকির সংখ্যা ৩৫ লাখ টাকা ছাড়িয়েছে।

সরকারি অ্যাম্বুলেন্স বন্ধ থাকায় রোগীদের বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ও মাইক্রোবাসে করে রাজবাড়ী থেকে ফরিদপুর ও ঢাকায় চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতে হচ্ছে স্বজনদের। এতে খরচ হচ্ছে প্রায় তিনগুণ বেশি।

সদর হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সের চালক মাইনউদ্দিন বলেন, সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে প্রতি কিলোমিটারের জন্য ভাড়া নেওয়া হয় মাত্র ১০ টাকা। সে অনুযায়ী ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পর্যন্ত আপ-ডাউন ভাড়া ৬৬০ টাকা এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পর্যন্ত ৪ হাজার ৪০০ টাকা।

অন্যদিকে, বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ও মাইক্রোবাসে গুরুতর রোগী বহন করার মতো কোনো উপকরণ নেই। তারপরেও ওইসব অ্যাম্বুলেন্স ও মাইক্রোবাসে ফরিদপুর পর্যন্ত দুই হাজার টাকা এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ পর্যন্ত আট হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে। এতে দরিদ্র রোগীরা অর্থনৈতিকভাবে চরম সংকটে পড়ছেন। সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালু থাকলে রোগীদের আর্থিক ক্ষতি কম হতো।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা বলেন, হাসপাতালের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস বন্ধ থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অ্যাম্বুলেন্স দু’টি চালু হলে রাজবাড়ীবাসীর অনেক উপকার হবে। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, শিগগিরই পাম্পের বাকি টাকা পরিশোধ করে অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু করা হোক।

এদিকে, বিষয়টি বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও তেল সরবরাহকারী পাম্পের বাকি টাকা পরিশোধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। -হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক স্বপন কুমার কুন্ডু বলেন, ‘পাম্পে তেলের টাকা বাকি ও অ্যাম্বুলেন্স বন্ধের বিষয়টি কয়েকবার স্বাস্থ্য বিভাগের মহাপরিচালকসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে। আমি নিজে স্বাস্থ্য বিভাগের উপপরিচালকের (অর্থ) সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি জানিয়েছেন, অর্থ বরাদ্দ এসেছে। কিন্তু সেই অর্থ কবে নাগাদ আমরা হাতে পাবো এবং অ্যাম্বুলেন্স চালু করতে পারব তা নির্দিষ্টভাবে বলতে পারছি না।’  তবে দু একদিনের মধ্যে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

সম্পাদকঃ  অনুজিত সরকার
প্রকাশকঃ মুহাম্মদ রকিবুল হাসান
ই-মেইলঃ [email protected]

কপিরাইট © ২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক রাজবাড়ী